
গ্রামীণ জনপরে শান্ত সকাল হঠাৎ অশান্ত হয়ে ওঠে। বাতাসে ভেসে আসে রক্ত পঁচা ঘ্রাণ, একের পর এক রহস্য, একজন নারীর নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ নাকি কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা। স্থানীয়রে মধ্যে ভয়-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লুকিয়ে থাকা একটি অন্ধকার অতীত ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে থাকে। গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে কয়েকটি কেন্দ্রীয় চরিত্র- এক রহস্যময় নারী, যার অতীতের সাথে বর্তমান ঘটনার অদৃশ্য যোগসূত্র। তদন্তের অগ্রগতির সাথে সাথে বেরিয়ে আসে পারিবারিক শত্রুতা, ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার জটিল জাল। অপরিচিত মুখচ্ছবির অনাকাং অনুপ্রবেশ। উপন্যাসে বাস্তবতা ও মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন মিলেমিশে এক অদ্ভুত অন্ধকার আবহ তৈরি করে, যেখানে প্রত্যেকটা চরিত্রই যেনো এক একটা অপরাধের প্রতীক, সত্যকে আড়াল করার প্রবণতা আবার কারো কারো জন্য সত্য উদঘাটন একমাত্র লক্ষ্য। চূড়ান্ত মুহূর্তে প্রকাশ পায় যা কেবল অপরাধ নয়, বরং মানুষের ভেতরের লুকানো লোভ, ভয় এবং সুযোগ সন্ধানী আশপাশের মানুষগুলোর চরিত্রের নগ্ন প্রকাশ। কখনো কখনো ভাগ্যের বিপরীতে দাঁড়ালে, সে বিধিবাম হয়ে ফিরে আসে, আর তখন সত্য ও ন্যায়ের পথও হয়ে যায় কণ্টকাকীর্ণ। “বিধিবাম” নামের মাঝেই লুকিয়ে আছে এর দর্শন। ভাগ্য যখন অন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ায় তখন সত্য-মিথ্যার সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যায়। ভাগ্যের বিপরীতে মানুষের লড়াই সব সময় সমান শক্তিশালী নাও হতে পারে। পরিচিত মানুষ অপরিচিত হয়ে ওঠে। আবেগ, ভালোবাসা চাপা পড়ে দাম্ভিকতা, ক্রোধের আড়ালে।
সমাজে ঘটে যাওয়া এমন হাজারো ঘটনা যা আমাদের বিবেককে নাড়িয়ে দেয়। বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে এমন ঘটনা হর হামেশাই ঘটে চলেছে। কিছু উঠে আসে পত্রিকার পাতায় আবার কিছু হারিয়ে যায় গতানুগতিক ঘটনা প্রবাহে। প্রিয়জনের প্রতি সহনশীলতা, একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা হতে পারে সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধনের দূর্গ। বিধিবাম যেখানে রহস্য, ভয় আর ভাগ্যের খেলায় গড়ে উঠেছে অবিশ্বাস্য এক থ্রিলার!